এক....
সাকিল আমাকে ওর কলিগের বার্থডে পার্টি তে নিয়ে এসেছে। শতবার মানা করা সত্ত্বেও সাকিল আমার কথা শুনলো না। আমি জানি সাকিল আজ পার্টির মাবাপ করে ছাড়বে। ডঃ নায়রা সেদিন আমায় অমন কটুকাব্য না বললেও পারতো। কি করেছিলাম আমি হু?? শুধু নিজের ভাই-বন্ধু, বলা যায় আমার দুনিয়ার সাথে আড্ডা দিতেই তো গিয়েছিলাম। আর আমি সাকিলদের ক্লিনিক গেলেই রোগীদের সাথে আড্ডা জমবেই। মুন্না ভাই এমবিবিএস মুভি তে দেখেছিলাম ; অসুস্থ মানুষকে ঠিক করতে যেমনটি ঔষধের দরকার পড়ে তেমনি মন ভালো থাকাও অনিবার্য। জীবনে কোনো কারনে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তো পূরণ করতে পারলাম না। তাই মাঝেমধ্যে সাকিলদের ক্লিনিকে এসে এই উপায়খানা ঝালিয়ে দেখি। শুধু এজন্য যে ক্লিনিক যাই তাও নয়। সে তো এক বাহানা। ডাক্তার হওয়ার পর থেকে সাকিলের সাথে তেমন কথা হয় না। আড্ডা তো দূরে থাক। শহরে ক্লিনিক হওয়ায় প্রায়শই ওকে কোয়াটারে রাত কাটাতে হয়। ছোট থেকে একসাথে রাতে খেয়ে অভ্যাস। মাঝরাত পর্যন্ত ওর অপেক্ষা করে যখন দেখা পেতাম না মন দুটুকরো হয়ে যেতো। কতদিন এভাবে না খেয়ে থেকেছি হিসাব নেই। এতে আমার অভিযোগ নেই। আমি চাই সাকিল জীবনে অকল্পনীয় উন্নতি করুক। তাই যথাসাধ্য চেষ্টা করি নিজের নিরামিষ জীবনে ওকে না জড়াতে। মাঝেমধ্যে মনে হয় সাকিল তা বুঝতে পারে। এজন্য আগেকার সময় ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আমি এতে কোনো হেল্প করি না। তাহলে তো আমার চাওয়া কোনদিন পূরণ হবে না। আর দ্বিতীয়ত বাস্তবিকতা বড্ড তেতো হয়। চলে যাওয়া মুহূর্ত থেকে আমরা একবার পা বাড়ালে আর ফিরতে পারি না। ফিরে আসে না সেই মুহূর্ত গুলো।
.
রোজকার মতো সেদিনও এক রোগীকে মজার মজার জোকস শোনাচ্ছিলাম। সাকিল পাশ থেকে আমার বাচ্চামি দেখে হাসছিল। তখনি ডাঃ মেমসাহেব এসে আমায় যাচ্ছেতাই শুনিয়ে যায়। সাকিল তো তেলেবেগুনে ভেজে আগুন। ছেলে হলে হয়তো তখনি থাপ্পড় মেরে দাত ফেলে দিতো। সাকিলের আবার থাপ্পড় বহুত জোরে লাগে। ছোটতে অনেক খেয়েছি। বেশি খেয়েছি লিজার জন্য হাত কাটতে গিয়ে। ক্লাসে যখনি দেখতাম লিজা কোনো ছেলের সাথে হেলেদুলে কথা বলছে, ব্যস! বাসা ফিরে হাত কাটার আবেগীপনা শুরু হয়ে যেতো। এজন্য সাকিলের কতো থাপ্পড় খেয়েছি। এই মেয়ে বেশি না একটি খেলে আজীবন স্মরণ রাখতো।
.
সেই মুহূর্ত থেকে সাকিল সুযোগ খোজ করছিল মেমসাহেব কে শায়েস্তা করার। আজ নিজের পার্টিতে নিমন্ত্রণ করে নিজে সেই সুযোগ দিয়ে দিলো।
মেমসাহেব কেক কাটতে যাবে তখনি কারেন্ট গেলো। বুঝে গেলাম কিছু ঘটতে চলেছে। সাকিল কে বললাম, দেখ ভাই; যা হওয়ার হয়ে গেছে। কিছু করিস না।
কিন্তু সাকিলের কোনো সাড়াশব্দ নেই। পাশে আধারে হাত নেড়ে দেখি কেউ নেই।
.
কারেন্ট আসামাত্র পাশে দেখি যথাস্থানে সাকিল দাঁড়িয়ে। কিন্তু মেমসাহেব মুখে ভ্যানিলা ফ্লেভারের কেকসমেত বিকট লাগছে। সব্বাই মেমসাহেব কে দেখে অট্টহাসিতে ব্যস্ত। সাকিল এবার হাটা ধরলো। পিছনে আমিও সাকিল কে অনুসরণ করলাম। মেমসাহেব কে পাশ কাটানোর সময় বললাম, এরপর আমাকে কিছু বলতে হলে আগে থেকে আমাকে জানাবেন। আমি চলে আসবো আর আপনাকে এরূপ সুদর্শন হওয়া লাগবে না।
.
দুই....
.
সাকিল ক্লিনিক, কোয়াটার কোথাও আর ফিরেনি। বাড়িতে নাকি কিছুদিন থাকতে চায়। এতে আমি খুশি হবো না কি চিন্তা করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার ঔষধ খাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। সাকিল এখন আগেকার মতো নেই। সে এখন ডাক্তার, বড্ড বড় মানুষ। ঔষধের পাতা দেখেই হয়তো ধরে ফেলবে আমার কি হয়েছে। ঔষধ সব মায়ের কাছে রাখতে হবে। সাকিল মাকে যা ভয় পায় কখনো ঔষধ নিয়ে কথা তুলবে না। আমাকে কিছু বললে গ্যাসের প্রবলেম বলে দিবো।
.
সাকিল কে দেখে মা বরাবরি খুশি হলো না। মা আজো মনে মনে সাকিল কে মেনে নিতে পারে নি। মা ভাবে আমার সবকিছুর জন্য সাকিল দায়ী। মাকে কতো করে বুঝিয়েও লাভ পাই নি। সত্যি বলতে আমি যা কিছু করেছি আমার জীবনের সবচে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটার জন্য; যাকে আমি ভাইয়ের মতো ভালবাসি। এতে আমার মরণেও ন্যূনতম আফসোস রবে না।
.
রাতে জেগে থেকে দুজনের কথার খই ফুটিয়েছি। মাঝখানে সাকিলের হাতের রং চা জবরদস্ত ছিল। মাঝরাতে আড্ডা থামিয়ে দেই আমি; সাকিল তো মানে না। যতোই না মানুক আমার কাছে বেটাকে হার মানতেই হয়।
ভোরবেলা উঠে নামায পড়ে তখনো দেখি সাকিল ঘুমাচ্ছে। শহরে থেকে হয়তো অভ্যাস হয়ে গেছে দেরি করে উঠার। তাই ডাকলাম না। আমরা গ্রামের ছেলেপেলে দের সকাল সকাল না উঠলে কেমন যেন লাগে? মনে হয় দিনের শুরুতে কিছু একটা খামতি রইলো। যা ফজরের নামায পড়ে পরিতৃপ্তি মিলে।
.
মা আমায় বহুত বকাঝকা করছে। একটু হেটে ব্রাশ করে দৌড় দেই বাজারে। এতেই আমার বুক ব্যথা শুরু হয়ে যায়। সাকিল দেশি মাছ আবার বড্ড পছন্দ করে। বাজারে সকালবেলা ছাড়া দেশি মাছ যেন আমাবস্যার চাদঁ। তাই বুকের ব্যথা পরওয়া না করে বাজারে যায়। মাঝেমাঝে মনে হয় অতিষ্ঠ এই যন্ত্রণার চেয়ে মরণ হয় না কেনো?? পরে ভাবি আমি মরে গেলে সাকিলের কি হবে!! আবার যে একা হয়ে যাবে ছেলেটা। ওর মা মরে যাওয়ার পর আমি ই তো সব সাকিলের কাছে।
.
সাকিল আমাকে নিয়ে পাড়ায় বেড়িয়েছে। ছোট্ট একটা ব্যাগে কিছু ঔষধ নেয় সাকিল। বুঝে গেলাম সাকিল ঘরে ঘরে এখন চেকআপ করে বেরুবে। এ আমার কাছে অচেনা নয়। মেডিকেলে পড়ার সময় কি ইন্টার্নশিপ করার; সাকিল সবসময় মানুষের কথা ভেবেছে।
অনেক সময় ভাবি এমন কারো বন্ধু হতে পেরে আমি সত্যি আটকপালে। সাকিল কেও বলেছি একথা। কিন্তু বেটা মানতে নারাজ। বলে কি না, অভ্র তুই আমার জন্য অনেককিছু করেছিস ; কিছু আমি জানি কিছু জানি না। আর তুইও মুখ ফুটে বলিস না। আমি তোকে চিনি। আর যেইদিন সব জানতে পারবো দেখিস কি করি। নিজের জীবন তোর হাতে তুলে দিবো।
আমি সাকিলের কথায় হাসি শুধু। কি আজব সম্পর্ক আমাদের।
.
সাকিলের শহর যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম শহরে থেকে হয়তো বন্ধু আমার শহুরে হয়ে গেছে। অন্যদের মতো তারও দেরি তে উঠার অভ্যাস। কিন্তু না; আজ আমার আগে সাকিল ঘুম থেকে উঠেছে। আমিও তড়িঘড়ি করে মাকে নাস্তা করতে বলি। পরে সাকিলকে নিয়ে জগিং করতে বের হই। আমি অবশ্য বেশি দৌড়াতে পারিনি। মাঝখানে সাকিল কিছু আচঁ করতে পেরেছিল মনে হয়। কিন্তু ওকে বেশি ভাবার সুযোগ না দিয়ে আবার দৌড়াতে শুরু করি। বুকটা ততক্ষণে চিনচিন ব্যথা করা শুরু করে দিছে। সাকিল কে কোনোমতে ওর গন্তব্যে পাঠিয়ে দেই একবার ; পরে ওর অগোচরে শহর গিয়ে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হবে। কদিন ধরে বেশি ই খারাপ লাগছে।
.
সাকিল বাজার পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে অটোরিকশায় তুলে দিলাম। মায়ের কাছ থেকে রিপোর্ট সব নিয়ে এসেছি। দোকান গিয়ে বাবার সাথে দেখা করলাম। গত কয়েকদিনের হিসাব বাবা কে বুঝিয়ে দিয়ে ঘড়ি দেখে ঠিক আধঘণ্টা পর আমিও অটোরিকশায় করে শহর রওনা দিলাম।
অটোরিকশা স্ট্যান্ড থেকে ডাক্তারের চেম্বার বেশিদূর না। তাই হেটে চলতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর মনে হলো কেউ আমাকে ফলো করছে। থেমে থেমে পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ পরিচিত নেই। পরে আবার হাটা শুরু করি। মিনিট কয়েক পর চেম্বারে পৌছতে হাফিয়ে উঠি। সামনেকার চায়ের দোকানে বসে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেই। একটু এখানে জিরিয়ে নিবো ভাবছি। ডাক্তার তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না।
.
চেম্বার ঢুকে চোখ আমার চড়কগাছ। সাকিল ডাক্তারের রুমের বাইরে বসে আছে। সাকিল দেখার আগে পিছন ফিরে দৌড়ানো শুরু করলাম। কয়েকমিনিট দৌড়াতে আবার সেই বুকের ব্যথা শুরু। ঠিক মাথার উপরে সূর্যটা সব চলার শক্তি চুষে খাচ্ছে যেন। বড্ড ঘামছি আমি। এই বুঝি মাথা ঘুরে পড়ে যাবো।
চোখ খুলে নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিষ্কার করি। হাতের কব্জি তে সিরিঞ্জ লাগানো। পাশে খেয়াল করলাম নার্স দাঁড়িয়ে। বললাম, আজ কত তারিখ??
নার্সের মুখে আমার কথায় হাসি ফুটলো। কোনো জবাব না দিয়ে বাইরে দৌড়ে গেলো। হয়তো ডাক্তার কে ডাকতে গেছে। দেয়ালে লটকানো ক্যালেন্ডার দেখে বুঝতে পারলাম, কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। চারপাশ ঘুরেফিরে দেখে খুব চেনা মনে হচ্ছিল। চোখে জায়গাটার আবছা ছবি আসলে শিউর হতে পারছি না এটা কোথায়।
.
মা আমাকে স্যুপ খাইয়ে দিচ্ছি। আমি সুবোধ বালকের ন্যায় খাচ্ছি। রুমে সাকিল আর কয়েকজন ডাক্তারও রয়েছে। তাদের চেনা লাগছে। মনে পড়লো এটা সাকিলদের ক্লিনিক। সাকিল অন্যদের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে সব বুঝিয়ে নিচ্ছে। মনে সংশয় জন্ম নিতে শুরু করে ততক্ষণে। সাকিলের মুখোমুখি আমি কেমন করে হবো!! ওর প্রশ্নের জবাব ই বা কি দিবো??এখন মা আমাকে বাচাতে পারে। মা থাকাকালীন সাকিল আমার সাথে কথা বলার সাহস পাবে না আমি নিশ্চিত। তাই স্যুপ খাওয়ার গতি কমিয়ে দিলাম
.
তিন.....
.
সাকিল আমার পাশে একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লো। মা চলে গেছে। স্যুপ আমাকে আর কতক্ষণ বাচাতো!!
সাকিল বহুত গম্ভীর মনে হচ্ছে। তা ঝড় আসার আগেকার নীরব সময়টুকুর মতো। কি জবাব দিবো সাকিল কে এটা ভাবতে না ভাবতে সাকিল বলে উঠলো, অভ্র!! চল আজ মন খুলে একে অপরের সব অজানা কিছু বলে ফেলি। মানুষকে মরতে হবে। এই ধর এখনি যদি টুপ করে যদি মরে যাই মনের কথা না বলার আফসোস রয়ে যাবে।
.
ঠিক হলো আমি আগে সব বলবো। সাকিল বলল, অভ্র সাজেদামা যখন মানে না; আমাকে বাইরে পড়তে যেতে একদম রাজি না, তখন তুই ঠিক করে রাজি করিয়েছিলি বলবি??
সাকিল একেবারে যেখানে জখম হয়েছে ঠিক সেখানে হাত দিয়েছে। আমি ঢক গিললাম। পানির গ্লাস হাত বাড়িয়ে নিতে গিয়েও পারলাম না। শক্তি নেই অতোটুকু। সাকিল বুঝতে পেরে নিজ হাতে আমার মুখে পানির গ্লাস তুলে দিলো।
.
বললাম, জানিস ই তো আমাদের তখন আর্থিক অবস্থা ভালো না। বাবারও বয়স হয়েছিল। বাস্তবিক অর্থে আমাদের দুজনের বাইরে গিয়ে পড়াশুনা করা সম্ভব ছিল না। বাবা একা কতদূর সামলাতো!!! একজন কে বাড়িতে থেকে নিজের স্বপ্ন মাটি চাপা দিতে হতো। আর মা তোকে বেছে নিয়েছিল। আমি কখনো চাই নি তোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হোক। মাকে কিছু তে রাজি করাতে পারছিলাম না। আমাদের পাশের বাড়ির পাপ্পুর কথা মনে আছে?? শালা তো কুবুদ্ধি দিতে পারদর্শী ছিল। ওকে সব খুলে বলি। পাপ্পু বুদ্ধি দিলো অসুস্থতার নাটক করার। পরে ঔষধ না খাওয়ার বাহানা করে মাকে রাজি করানো যেতো। প্লানমাফিক কাজ শুরু করে দিলাম। মার মন গলতে শুরু করে দিলো; আর এদিকে আমি পাহাড়ন্যায় নিজের কথাতে অটুট ঔষধ খাবো না। মায়ের মন কতদিন আর সন্তানের ক্ষতি মুখবুঝে সহ্য করতো।
সাকিল আমার কথা তাক লেগে শুনলো। যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এই মুহূর্তটা আমার কাছে একেবারে নতুন। আমি মুখ লুকাতে এদিকওদিক তাকানো শুরু করলাম।
.
আমার কথা তখনো শেষ হয়নি। আজ যখন দুজনে নিজেদের সব কথা বলছি তাহলে এখানে খতম করলে মন্দ হয় না।
আমি আবার বললাম, তারপর তোকে রাজি করানো দুষ্কর হয়ে গেলো। মনে আছে কয়েন নিয়ে তোর সাথে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। যে জিতবে তার কথা অপরজন মেনে নিবে। সেখানেও কারসাজি ছিল আমার। এটাও পাপ্পুর কাছে শেখা। ব্যস! আমি জিতে গেলাম। আর তোকে আমার কথামতো নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে শহর যেতে হলো পড়াশোনা করতে।
সাকিল যেন যতো আমার কথা শুনছে অবাক হয়ে যাচ্ছে। একটুপর বলল, তুই আমাকে ধোকা দিতে পেরেছিলি দোস্ত!!
সাকিলের কথাটা আমার বুকে তীরের মতো গেঁথে গেলো যেন। কথা কাটানোর জন্য বললাম, আব্বুর সাথে জমিতে কাজ করতে শুরু করে দিলাম তুই যাওয়ার পর। জমির যাবতীয় কাজ বাবা আর আমি নিজে করতাম। লোক নিতাম না। বাড়ির খরচা যে বেড়ে গেছিলো। তোকেও টাকা পাঠাতে হতো। এরপর মা যেন কিছু বুঝতে পারে। আসলে আমি তো সিভিট খেতাম। হজমক্যান্ডির মতো ট্যাবলেট গুলা। মা তা জানতে পেরে তোকে ডেকে পাঠাবে বলে ঠিক করে। দোস্ত, বিশ্বাস করবি কি জানি না; আমি এরপর কিছুদিন নির্জীব হয়ে ঘুরেছি। নামায পড়ে দোয়া করেছি, মান্নত করেছি, নফল রোজা রেখেছি; যাতে আমার জীবন দিয়ে হলেও তোর স্বপ্ন পূরণে কোন বাধা না আসে। মায়ের সাথে প্রতারণা করেছিলাম আমি, কারণ যাই হোক। শাস্তি তো পেতেই হতো। এবার সত্যি সত্যি অসুস্থ হয়ে গেলাম। ব্যস! এরপর আগেকার মার সাথে ঔষধ না খাওয়ার হুমকি বাস্তব রুপ নিলো।
আমি কথাগুলো হাসি মুখে স্বাভাবিক করে বলছিলাম। কিন্তু সাকিল আমার বলা কথাগুলো মেনে নিতে পারছে না। চোখের কোনে পানি টলমল করছে। এই বুঝি কেঁদে দিবে।
নিজেকে সামলে সাকিল বলল, আমাকে জানাতে পারতিস? নাকি এর অধিকার টুকু নেই। তোর চিকিৎসার জন্য সব উজার করে দিতাম বলেই দেখতিস।
আমি মুচকি হেসে বললাম, তাই তো আমি চাইনি। তুই সবকিছু ফেলে আমার পিছনে পড়িস। তোকে ভালবেসে, মা বাবা কে ভালবেসে হৃদয় টা অকেজো হয়ে পড়েছে। তা নাকি বদলাতে হবে। মানুষ এমনি এমনি নিজের হৃদয় কাউকে দেয় নাকি। ডাক্তার বলেছিল সে অনেক টাকার ব্যাপার। বাবা জীবনের সব উপার্জন বিলিয়ে দিলেও তার আধা হতো না। পরে বাবা কে মানুষের সামনে হাত পাততে হতো। বাবা চাইলে আর দুজনার মত কাচা টাকা সুদ খাটিয়ে নিমিষে বড়লোক না হলেও সচ্ছল জীবন পেতে পারত। বাবা সেই পথ কখনো বেছে নেয় নি। নিজের ঘাম মাটি তে ফেলে জমিজমা করেছে, বাজারে দোকানটা দিয়েছে। সেই মানুষটাকে অন্যের সামনে কেমন করে হাত পাততে দেখতাম বলতে পারিস। তোর স্বপ্ন পূরণের বাধা হয়ে দাঁড়াতাম এতকিছুর পরেও; আমি যে স্বপ্নে তা ভাবতে পারি না।
.
সাকিল এবার নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করলো। ওর চোখ থেকে টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। আমার হাতে এতোটুকু শক্তি নেই যে ওর চোখ মুছে দিবো। কিছু বলতে যাবো তার আগে মা কাঁদতে কাঁদতে রুমে আসলো। সাকিল চালাকি করে চোখেরজল আড়াল করে নিলো।
মা সাকিলকে কথা শুনিয়ে যাচ্ছে। ডোনার না পেলে আমার হাতে খুব একটা বেশি সময় নেই আমার জানা আছে। এখন আমার বাচা মরণ কিছু মুহূর্তের ব্যাপার।
মাকে কিছু তে চুপ করাতে পারছি না। একসময় মা চুপ করলো। ভাবলাম কাহিনী এখানে শেষ। কিন্তু না। মা আবার বলল, তুই জানিস সাকিল!! খোকা তোর জন্য দিনরাত জমিতে খেটেছে। হাস-মুরগি, ছাগল সব পুষেছে। যখনি তোর টাকার দরকার পড়তো ওগুলো বিক্রি করতো। পশুপাখির প্রতি খোকার মায়া কম নয়। তোর জন্য তাও ভুলে গেছে। কাজের লোক না নিয়ে সেই টাকা নিজে জমিতে কাজ করতো। ওর হাতে বই থাকার কথা ছিল সেখানে কোদাল দেখে বুকটা যে ফেটে যেতো আমার। যতবার তোর পড়াশোনা বন্ধ করে খোকাকে থামাতে চেয়েছি খোকা অন্য পথ বেছে নিয়েছে। খোকার বাবাকে যখন তোর কাছে টাকা না পাঠাতে রাজি করালাম সেসময় খোকা যেমনতেমন করে হোক তোকে টাকা পাঠাতো। সেই খোকা আজ তোর সামনে তিলেতিলে মরছে আর তুই দেখছিস।
.
মা এবার আমার হাত ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। ওদিক সাকিল কোনমতে নিজের চোখেরজল থামিয়ে রেখেছে। ততক্ষণে মনে আমার ঝড় বয়ে চলেছে। এখন দেখছি শান্তি তে মরাও হবে না।
বাবা এসে মাকে বুঝিয়ে নিয়ে গেলো। এরপর সাকিল নিজেকে সামলে আবার চেয়ারে বসে পড়লো। আমার সব বলা শেষ। সাকিল বললে এখন বাচি। হুট করে সাকিল পাশের টেবিল হতে একটা ডায়েরি হাতে নিলো। বলল, অভ্র!! তুই যে কদিন অজ্ঞান ছিলি খুব করে ভাবলাম। জানিস জীবনে সবচে বড় অন্যায় করেছি নিজের সাথে। ভালবাসার মানুষগুলো আগলে রাখতে পারিনি কখনো। এক তুই, আরেকজন যার জন্য জীবন এখনো আমি এগুতে পারিনি। তুই সবসময় বলতি না বিয়ে করিনা কেন?? এই হলো তোর উত্তর আর আমার সব পূরণ না হওয়া স্বপ্ন। কিন্তু তা মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ করার স্বপ্নের কাছে তুচ্ছ ছিল। আজ আমার কাছে রাস্তা আছে মনের সবচে মানুষদুটিকে আগলে রাখার একদম হৃদয়ের কাছে। জানিস মেয়েটা জানেও না কেউ তাকে এতোটা ভালবাসে, অজান্তে সব স্বপ্ন বুনে। কিন্তু এখন সব ঠিক করে দম নিবো। চল কয়েনের চ্যালেঞ্জ টা আবার হয়ে যাক। যে জিতবে তার কথা অন্যজন কে মানতে হবে।
.
কয়েন শূন্য থেকে নামার পর সাকিল কে দেখলাম হাতে নিয়ে পিঠ মুড়িয়ে দিলো। বেটা চিটিংবাজ। বললাম, কিরে চোরের সাথে বাটপারি করছিস!!!
সাকিল মুচকি হেসে বলল, তোর বন্ধু যে। তোর কাছে শেখা।
সাকিল তাহলে বদলা নিচ্ছে। আমি সত্যি হেরে গেলাম। সাকিল কথা বলতে বলতে ইনজেকশন নিয়ে আমার হাতে সাবধানে ঠেলে দিলো। একটু পর আমার চোখে ঘুম ঘনিয়ে আসছিল।
তখনি রুমে সাদা পোশাক পড়া আগেকার লোকগুলো ঢুকলো। সাকিলকে বলল, ডাক্তারসাহেব এটা আপনার জীবনের ব্যাপার। আরেকবার ভেবে নিন।
সাকিল মুচকি হেসে জবাব দিলো, সব উপরওয়ালার হাতে। একসময় আমার স্বপ্ন পূরণ করতে উপরওয়ালা আমার বন্ধুকে অসুস্থ করে ওর দোয়া মঞ্জুর করেছিল। আজ দেখি সেই বন্ধুর জীবন বাচাতে আমার দোয়া কবুল করে কিনা!!
আমি আচঁ করতে পারছিলাম, কি ঘটতে চলেছে। একটু পর নার্স এসে বলল, টেস্ট সব পজিটিভ।
সাকিলের মুখে বিজয়ের হাসি। সাথে সাথে সাকিল কিসের কাগজে যেন সাইন করলো। আমার কথা বলার শক্তি নেই। চোখ নিভে যাওয়া প্রদীপের আগমুহূর্তের মত করছিল।
সাকিল আমার কাছে এসে বসলো আবার। বলল, তখন তোর কথা আমাকে শুনতে হয়েছিল, আজ তুই আমার কথা সব শুনবি। খবর নিয়েছি মেয়েটা আজো বিয়ে করেনি।আমি তাকে তোর বউ হতে দেখতে চাই। তোর শরীরে আমার হৃদয় কম্পন করে তার ভালবাসাকে অনুভূত করতে চাই। দেখ বেটা দিনশেষে ভালবাসা আর ভাইকে দুজনকে আগলে রাখছি। আর তুই আমাকে দোষারোপও করতে পারবি না। দেখলি না টেস্ট সব পজিটিভ আসছে। তারমানে কি দ্বারায় উপরওয়ালা চায় এমন হোক।
কাপা কাপা থাকে সাকিলের হাত ধরলাম। মাথা নেড়ে বুঝানোর চেষ্টা করলাম, দোস্ত এমন করিস না।
চোখ দুটো শীতল হয়ে আসছে। সাকিলের চেহারা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হচ্ছে। সাকিল কাঁদছে। কান্নারত অবস্থায় আমার মাথা বুলিয়ে দিলো ঠিক যেন এটাই আমাদের শেষ দেখা ; অন্তিম স্পর্শ!
.
চার.....
.
আজ দুদিন হলো সাকিলের কবরের পাশে থেকে কাটিয়েছি। রাতেও বাড়ি ফিরি নি। মা বাবা কতবার যে ডাকতে এসেছে শুনেও না শোনার ভান করেছি। কিছু তে মেনে নিতে পারছি না সাকিল আমার পাশে নেই। হুট করে মন বলে উঠলো, এই বেটা দেখছিস না আমি কম্পিত হচ্ছি। তাহলে বলিস কেন আমি পাশে নেই।
আমি চুপ করে থাকি। কিছু বলার আমার ভাষা নেই। প্রকৃতির লীলাখেলার কাছে আমি পরাজিত।
মা যখন কিছু তে আমাকে বাড়ি ফেরাতে পারলো না তখন আবার সাকিলকে হাত করলো। মায়ের হাতে সেই ডায়েরি। যা সাকিল আমাকে দিয়েছিল। সাকিলের ভালবাসার মানুষকে ওর মনের সাথে মিশিয়ে নিতে বলেছিল। হাস্যকর হলেও আজ তা সম্ভব। কেন নয়!! এইতো সাকিলের হৃদয় তার ভালবাসার মানুষের জন্য আজো স্পন্দিত হচ্ছে।
.
ডায়েরি তে সাকিলের সব ছোট্টছোট্ট চাওয়া প্রতি পাতায় লেখা আজো বর্ণীল হয়ে আছে। বাড়িতে ফিরে কাপড় গুছানো শেষ করলাম। মা আমার সাথে কথা বলতে চেয়েও আমি বলিনি। কোথাও না কোথাও সাকিল আজ নেই বলে মাকে দোষী মনে হচ্ছে।
মন আবার বলল, এই বেটা সব তো আমার চাওয়াতে হয়েছে। সাজেদামার দোষ কি??
এবার হুঙ্কার দিয়ে মনকে চুপ করে দিলাম। মাথায় একি চিন্তা একজন ডাক্তারি পড়ুয়া মেয়ে আমার বউ হবে কোন দুঃখে।
মন আবার বলে উঠলো, ভালবাসার নজরে দেখ বেটা সব সম্ভব।
.
মেয়েটার নাম অর্পিতা।
ডায়েরির প্রথম পাতাতে নামটাকে ছোট্ট করে অর্পি ডাকার কথা লেখা আছে।
.
ডায়েরি তে লেখা ঠিকানা মতো পৌঁছে গেছি। লোকের কাছে খোজ করে জানতে পারি অর্পি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ে। গ্রামে ডাক্তারি পড়া শেষ করে কয়েকজন মিলে বিনামূল্যে সবার চিকিৎসা করে। বাবা কে বলে ছোট্ট একটা ক্লিনিক বানিয়ে নিয়েছে।
কিছু লোককে বললাম থাকার জায়গা হবে কিনা। সবার এক উত্তর পাওয়া যাবে না। তবে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে।
সবকিছুর শুরুতে এভাবে হবু শ্বশুর মশায়ের সাথে মোলাকাত করতে হবে ভাবনার বাইরে ছিল। সত্যি বলতে কি খানিক ভয় করছিল। তখনি মন বলে উঠলো, যাব পেয়ার কিয়া তো ডার না কেয়া!!
এবার না হেসে পারলাম না। বেটা ভালোই আমার মজা নিচ্ছে।
.
অর্পির বাবা মানে চেয়ারম্যান সাহেবের নাম মতিন চৌধুরী। ভদ্রলোক কে বললাম, ব্যবসার কাজে এসেছি। কিছু দিন থাকতে হবে। জায়গা পাচ্ছি না।
ভদ্রলোক মুচকি হেসে পাশের লোককে বলে বাজারের কাছাকাছি থাকার বন্দোবস্ত করে দিলেন। যাতে আমার কাজের সুবিধা হয়।
এরপর শুরু হলো অর্পি কে দূর থেকে লুকিয়ে দেখা। যা ডায়েরির দ্বিতীয় পাতা লেখা ছিল। কখনো ক্লিনিকের বাইরে, কখনো রোগী হয়ে ভিতরে অর্পি কে দেখা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
একেক দিন একেক রোগ নিয়ে হাজির হতাম। সর্দি কাশি, জ্বর হাবিজাবি। রোজ রোজ রোগের বাহানা করে অর্পি দেখা সম্ভব ছিল না। তখন ক্লিনিকের বাইরে দাঁড়িয়ে অর্পিকে দেখতে হতো।
.
আজ পেটের সমস্যা নিয়ে অর্পিকে দেখতে এসে ধড়া পড়ে গেছি। ক্লিনিকে আসার আগে চায়ের দোকানে নাস্তা করেছি। সেখানে ক্লিনিকে কাজ করা একজন দেখে নিয়েছে। আর অর্পি কে আমি বলেছি, কিছু খেতে পারছি না। এতেই চোর ধড়া পড়ে গেছে।
লুকোচুরি করে দেখা পর্ব শেষে এবার ধড়া পরার অনুভূতির স্বাদ পাওয়ার কথা লেখা ছিল ডায়েরি তে। এটাও হয়ে গেলো।
অর্পি চোখ রাঙ্গিয়ে বলল, এসবের মানে কি??
মুচকি হেসে বললাম, কেমন আছো অর্পি?
অর্পি চোখ বড় বড় করে বলল, আমার নাম অর্পিতা; অর্পি নয়।
বললাম, আমি তো অর্পি ডাকবো।
অর্পি কপট স্বরে বলল, অর্পি ডাকার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে শুনি??
বললাম, যখন কলেজের বটতলায় তোমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়তে দেখেছি। ক্যান্টিনে বই পড়ার ফাকে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দেখেছি। তোমার লম্বা চুলে খোপা করতে দেখেছি। সাদা পোশাকে তোমায় পরী ভেবে ঘায়েল হয়েছি।
আরো কিছু বলতে যাবো তার আগে দুজন এসে আমাকে টেনে নিয়ে গেলো।
কথা গুলো যেন সাকিলের বলা। ওর অনুভূতি পুরোটা ফুটিয়ে উঠেছে। আমি শুধু যেন অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম।
.
মতিন সাহেবের সামনে বসে আছি। উনাকে না বুঝে শুনে বলেছি, তার মেয়েকে ভালবাসি আমি। এজন্য আসা এখানে ব্যবসার জন্য নয়
ক্লিনিকে দেখা করার পর আবার যখন অর্পির সাথে কথা বলি ওহ চট করে বলে, আমার বাবা এমনকিছু মানবে না। ভালবাসা টালবাসা উনি একদম পছন্দ করেন না।
একথা শোনার পর সাহস করে মতিন সাহেবের সাথে দেখা করা। ডায়েরির কোথাও না কোথাও এ চাওয়া নিশ্চয় লেখা আছে।
মতিন সাহেব রীতিমতো অবাক আমার কথায়। হুট করে হেসে ফেললেন তিনি। বললেন, নিশ্চয় অর্পিতা মা বলেছে আমি ভালবাসা টালবাসা পছন্দ করি না। ওকে যতো ছেলে প্রেম নিবেদন করেছে, অর্পিতা আমাকে কারণ দেখিয়ে বেচে ফিরেছে। এমনি তে নামের পিছনে চৌধুরী পদবি তারপর সাবেক চেয়ারম্যান; চেহারাটাও বড্ড গম্ভীর। কোনো ছেলে আমার সাথে মেয়ের ভালবাসা কথা বলতে হাজারবার ভাববে আগে। আর তুমি কিনা প্রথম আমার সাথে কথা বলতে আসলে।
.
আজ তিনদিন হলো অর্পির সাথে কথা বলার জন্য ক্লিনিকের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি । কিন্তু অর্পি আমাকে গ্রাহ্য করেনি। আজ বৃষ্টি পড়ছে। শীত লাগছে। রোজকার মতো অর্পি কাজ সেরে আজো গাড়িতে করে চলে গেলো।
আমি নিজের কুঁড়েঘরে ফিরলাম। মতিন সাহেবের কথায় ভালো সংকেত পেয়েছি কিন্তু অর্পি যে মানছে না।
সারারাত হাড়ভাঙ্গা কাঁপুনির পর সকালবেলা জ্বর আসলো। পেটে যায়নি কিছু তাতে আবার জ্বর। একদম নাজেহাল অবস্থা।
স্বপ্নের মতো করে অর্পির প্রবেশ। কিছুক্ষণ মনে হলো জ্বরের ঘোরে ভুলভাল দেখছি।
কিন্তু যখন অর্পি আমাকে চেকআপ করতে লাগলো নিশ্চিত হলাম ওহ এসেছে। একটু খাবার খাইয়ে ঔষধ খাওয়ালো আমায়।
.
ঔষধ খাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে যাই। উঠে দেখি অর্পি তখনো আছে। আমাকে উঠতে দেখে কাছে আসলো। কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কি না দেখলো।
বললাম, তোমার বাবাও কিন্তু রাজি।
ভেবেছিলাম অর্পি ভড়কে যাবে। কিন্তু না। অর্পি মুচকি হেসে বলল, আমার ক্লিনিকের কি হবে??
আমি বললাম, শুধু কি নিজের গ্রামের মানুষের সেবা করতে চাও। এখানে তো আরো ডাক্তার আছে ক্লিনিক দেখাশোনা করার।
নিজের আঙ্গুল দেখিয়ে আরো বললাম, আর আপনার প্রেমে পাগল সবচে বড় রোগী টাকে কিন্তু দেখার কেউ নেই।
অর্পি কে দেখলাম লজ্জা পাচ্ছে। মোমবাতি প্রথমে কঠিন থাকলে আগুন জ্বালালে গলতে বাধ্য। মানুষের মনে ভালবাসা জন্মালেও তা গলতে বাধ্য।
অর্পি আমাকে জড়িয়ে ধরলো। বুক জোড়ে ধুকপুক করছে। সাকিল নিশ্চয় ভালবাসার মানুষটির ছোয়া পেয়ে এমন করছে। ডায়েরি পাতাগুলো শুধু কিছু কথা না, আমার জন্য সাকিলকে কাছে পাওয়ার মাধ্যম।
.
ডায়েরির প্রতিটি পাতা!
No comments:
Post a Comment